ধর্ম ও জীবন

গোপনাঙ্গে মুখ দেয়া সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? জেনে নিন বিস্তারিত

গোপনাঙ্গে মুখ দেয়া সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? ইসলাম এটিকে হারাম বলেছেন কারন নাপাক জায়গায় মুখ দিলে মানুযের মুখ আপবিএ হয়। যা ইসলামে সম্পৃণ নিষিদ্ধ।

প্রথমতঃ
শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে করা স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক কোন হস্তক্ষেপ করেন না। তারা নিজেদের শারীরিক সুখের ব্যাপারে কি করবে না করবে সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

তবে অস্বাস্থ্যকর যৌনকর্ম ইসলামে নিষিদ্ধ। যেমন পায়ুপথে যৌনমিলনে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকির সম্ভাবনা পাওয়া গেছে, ইসলামে অনেক আগে থেকেই নিজের স্ত্রীর সাথেও পায়ুপথে যৌন মিলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

যৌনাঙ্গে মুখ দেওয়া হারাম না হালাল সেটা নিয়ে অনেক মতপার্থক্য আছে। একদল মনে করেন, যে মুখ দিয়ে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পবিত্র নাম নেওয়া হয় সে মুখ অন্য কোন অপবিত্র স্থানে দেওয়া ঠিক না। আবার,

আরেক দল মনে করে যৌনমিলনে নিজের জীবনসঙ্গীকে চরম সুখ দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক নর-নারীর কর্তব্য। এমতাবস্থায় যৌনাঙ্গে মুখ দিয়ে যদি যৌনসুখ বাড়ানো সম্ভব হয় তবে তা নিশ্চয়ই দোষের কিছু হবে না।

এছাড়া যৌন মিলন করলে শুধু মুখ না, মানুষের শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গই অপবিত্র হয়ে যায়। ফরজ গোসলের মাধ্যমে সারা দেহের প্রতিটি অঙ্গের পবিত্রতা ফিরে আসে। তবে চর্মরোগজনিত কোন সমস্যা থাকলে যৌনাঙ্গে মুখ দেওয়া থেকে বিরত থাকা-ই ভাল।

দ্বিতীয়ত্বঃ
যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এটি একটি পশুভিক্তিক আচরণ। যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এটা সভ্য মানুষের আচরণ হতে পারেনা। পুশুদের হাত নেই বলেই তার সঙ্গীনিকে মুখ দ্বারা উত্তেজিত করে। কিন্তু আপনার তো হাত আছে। আপনার হাত থাকতে কেনো আপনি (পুরুষ ও নারী) কেনো যৌনাঙ্গতে মুখ লাগিয়ে আপনার সঙ্গীনিকে উত্তেজিত করবেন?? আমার জানা মতে পুশুরাও তো যৌনাঙ্গতে মুখ লাগায় না। তবে আপনি কেনো সৃষ্টির সেরা হয়ে যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাবেন???

এটা তো প্রসাবের রাস্তা। আপনি কি যে পাত্রে প্রসাব করেন সে পাত্রে কি খাদ্য রেখে খাবেন??? আপনার রুচিতে হলে খেতে পারেন আমার কোনো আপত্তি নেই।  আমার এই কথার বিপরীতে যদি আপনি বলেন এটা (যৌনাঙ্গ) তো ধোয়া ও পরিস্কার থাকে। জবাবে আমি আপনাকে বলবো আপনি কারো বাসায় মেহমান হয়ে গেলেন। আপনার সামনে সে বাসার মালিকের ছোট্ট ছেলে ফল রাখার পাত্রেতে প্রসাব করে দিল এবং বাসার মালিক তা ধুয়ে সে পাত্রে আপনাকে ফল বা খাবার  আপনি কি সে খাবার খাবেন? অবশ্য আপনার রুচিতে হলে খেতে পারেন।

আপনি তাকান তো আপনার নিজের দিকে। আপনি যখন আপনার মায়ের গর্ভে ছিলেন, তখন মহান আল্লাহ আপনার মায়ের মাসিকের রক্ত বন্ধ করে সে রক্ত দিয়ে আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সে মাসিকের রক্ত কি আপনাকে মুখ দিয়ে পান করিয়েছেন না কি নাড়ী দিয়ে। মহান আল্লাহ মাসিকের রক্ত নাড়ী দিয়ে আপনার দেহ প্রবেশ করিয়ে আপনার প্রাণ রক্ষা করেছেন। কেনো করেছেন? উত্তর হচ্ছে এই রক্ত যদি আপনার মুখ দিয়ে আপনার দেহে প্রবেশ করাতেন তাহলে আপনার মুখ টা নাপাক হয়ে যেত। তা হলে আপনি দুনিয়াতে এসে অপবিত্র মুখ দিয়ে মহান আল্লাহর নাম নিতেন। আপনি যাতে পবিত্র মুখ দিয়ে মহান আল্লাহর নাম জপতে পারেন সে জন্য মহান আল্লাহ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মায়ের গর্ভে আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

তৃতীয়তঃ
যৌনাঙ্গতে মুখ লাগালে যৌনাঙ্গতে লেগে থাকা জীবাণু আপনার দেহে প্রবেশ করবে। তাতে আপনি অসুস্থ হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাছাড়া আপনি যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাবেন সে যদি যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তখন আপনি কি করবেন???
এখন আপনি যদি প্রশ্ন করেন ডাক্তারেরা তো বলে যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাতে। উত্তরে আমি বলতে চাই, ডাক্তারেরাতো বলে পানি ফুটালে পানিতে থাকা জীবাণুরা মরে যায়। কিন্তু পানিতে থাকা জীবাণুরা মরে কি উড়ে যায় নাকি সে জীবাণু পানিতেই থেকে যায়??? এখন  আপনি যদি সে পানি খান তাহলে মরা জীবাণুর সাথেই সে পানি খাচ্ছেন।

পানি পান করার সঠিক ৮ টি আদব জেনে নিন !!

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেই বন্দার প্রতি সন্তুষ্ট, যে খাওয়ার পরে তার জন্য আলহামদু লিলাহ বলে এবং পানীয় পান করার পরে তার শুকরিয়া স্বরূপ আল হামদু লিল্লাহ বলে ।(সহীহ মুসলিম , খণ্ড – ৮ , হাদিস নং – ৬৭৩৬ )

পানি পান করার আদব…

(১) বিসমিল্লাহ বলে পান করা সুন্নাত ।
উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রা) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেনঃআমি ছোট ছেলে হিসাবে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। খাবার বাসনে আমার হাত ছুটাছুটি করতো। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাকে বললেনঃ হে বৎস! বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে আহার কর এবং তোমার কাছের থেকে খাও। এরপর থেকে আমি সব সময় এ পদ্ধতিতেই আহার করতাম। যার যার কাছ থেকে আহার করা।(সহীহ মুসলিম , খণ্ড – ৭ , হাদিস নং – ৫১০৮ , ৫১০৯

(২) ডান হাতে পান করা সুন্নাত ।
ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন আহার করে, তখন সে যেন ডান হাতে আহার করে । আর যখন পান করে সে যেন ডান হাতে পান করে । কারণ শয়তান বাম হাতে আহার করে এবং বাম হাতে পান করে ।(সহীহ মুসলিম , খণ্ড – ৭ , হাদিস নং – ৫১০৪

(৩) পান করার সময় পান পাত্রে শ্বাস – প্রশ্বাস ফেলা নিষেধ ।

(৪) এক ঢোকে পান না করে তিন ঢোকে পানি পান করা সুন্নাত ।
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত – রাসূলুল্লাহ (সা) পানি পান করার সময় তিনবার শ্বাস নিতেন। (বুখারী, মুসলিম)

(৫) বসে পান করা সুন্নাত ।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেনঃরাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কখনো দাড়িয়ে পান না করে ।

(৬) পান করার পর তাহমীদ (আল্লাহর প্রশংসা ) করা সুন্নাত ।
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত – তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেই বন্দার প্রতি সন্তুষ্ট, যে খাওয়ার পরে তার জন্য আলহামদু লিলাহ বলে এবং পানীয় পান করার পরে তার শুকরিয়া স্বরূপ আল হামদু লিল্লাহ বলে ।(সহীহ মুসলিম , খণ্ড – ৮ , হাদিস নং – ৬৭৩৬ )

(৭) পাত্রের ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পান করা নিষেধ ।

(৮) পান পাত্রের (কলসি , জগ , বোতল ইত্যাদি) মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা নিষেধ ।
আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত – তিনি বলেনঃ নবী (সা) মশকের/পাত্রের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বোচ্চ পঠিত

Quis autem vel eum iure reprehenderit qui in ea voluptate velit esse quam nihil molestiae consequatur, vel illum qui dolorem?

Temporibus autem quibusdam et aut officiis debitis aut rerum necessitatibus saepe eveniet.

কপিরাইট © ২০১৫ - মিশ্র বাংলা এর একটি প্রচেষ্টা

To Top